প্রণোদনা নয়, ১৫ দফা দাবি ওমান প্রবাসীদের
ছবি : ওমানে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে কর্মরত কজন বাংলাদেশি শ্রমিক।- সংগৃহিত

প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো সরকারের থেকে এক হাজার টাকা রেমিট্যান্স প্রেরণে ২০ টাকা প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা করার পর প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ দিলেও ভিন্নমত পোষণ করছেন বেশিরভাগ রেমিট্যান্সযোদ্ধা। 

তাদের দাবি, ‘আমরা বিশ টাকা চাই না, আমাদের এয়ারপোর্ট হয়রানিসহ অন্যান্য হয়রানি বন্ধ করা হোক এবং সেইসঙ্গে আরো মূল্যায়ন করা হোক।’

বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রবাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন। সেইসাথে প্রবাসের বিভিন্ন বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠনও এমন দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। 

সম্প্রতি ওমানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন ‘চট্টগ্রাম সমিতি ওমানে’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি।

দাবিগুলো হলো- ১) এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের সবধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ২) দূতাবাসের সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রবাসীদের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। সেবার মান বাড়াতে হবে। আমলাদের জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। ৩) প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে অব্যশই প্রবাসীদের থেকে নিয়োগ দিতে হবে। কারণ একজন প্রবাসী বুঝবে আরেকজন প্রবাসীর সুখ-দুঃখ। ৪) প্রবাসীরা বিদেশে মারা গেলে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ৫) প্রবাসীদের নিয়ে নাটক সিনেমা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল করে ভিডিও বানানো বা কুরুচিপূর্ণ কথা বলা বন্ধ করতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যে কারণে প্রবাসীদের অনুভূতিতে আঘাত হানে। ৬) প্রবাসীদের পরিবারকে দেশে হয়রানি বা নির্যাতন থেকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। ৭) পাসর্পোট অফিসে হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং দালালমুক্ত পাসপোর্ট অফিস করতে হবে। দূতাবাসগুলোতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৮) বিদেশে নিরাপরাধ জেলে বন্দীদের সরকারি খরচে দেশে নিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৯) প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ১০) প্রবাসীদের জন্য কোটা রাখতে হবে এবং প্রবাসীদের ছেলে-মেয়েদের জন্য স্কুল-কলেজে বিশেষ সুযোগ দিতে হবে। ১১) যে কোনো প্রবাসী ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফেরত গেলে তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা প্রদান করতে হবে। ১২) যেসব প্রবাসী টাকার অভাবে বিদেশে চিকিৎসা করতে পারছে না তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বা বিদেশে সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৩) প্রবাসী রোগীদেরকে বাংলাদেশ বিমানে বিনা খরচে দেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ১৪) প্রবাসীদের দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড প্রদান করতে হবে এবং ১৫) প্রবাসীদেরকে বাংলাদেশের যে কোন নির্বাচনে দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার (১৬ বিলিয়ন) ছাড়িয়েছে। বিদায়ী ২০১৮-’১৯ অর্থবছরের এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই রেমিট্যান্স এই অংক অতিক্রম করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসেনি। ২০১৪-’১৫ অর্বছরে ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৩ জুন বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২১ দিনের রেমিটেন্সের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই ২১ দিনে (১- ২১ জুন) ৯৭ কোটি ২৯ লাখ রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। অর্থবছরের ১১ মাসে অর্থ্যাৎ জুলাই-মে সময়ে এসেছিল এক হাজার ৫০৫ কোটি ৯০ লাখ (১৫.০৫ বিলিয়ন) ডলার।

সব মিলিয়ে ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০১৮-’১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে ২১ দিনে (২০১৮ সালে ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ২১ জুন) এক হাজার ৬০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার (১৬.০৩ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

অর্থবছরের বাকি এক সপ্তাহে (২২ জুন থেকে ৩০ জুন) আরও ২৫ থেকে ৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। আর তাতে এবার রেমিট্যান্স ১৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে জানান তিনি।

পবিত্র মাহে রমযান ও ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠানোয় মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে: যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স। বর্তমানে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends