পূর্ব লন্ডনে স্ত্রীকে ৫৮ বার ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি!
ছবি : হত্যার শিকার আসমা বেগম।- সংগৃহিত

জুয়া খেলার জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা চেয়ে না পাওয়ায় তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (১ জুলাই) লন্ডনের ‘ওল্ড বেইলিকোর্টে’ এ মামলার  শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি বছর ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের কেনিংটাউনে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, জালাল উদ্দিন (৪৭) নামে ওই ব্রিটিশ বাংলাদেশি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগমকে (৩১) ৫৮ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।

শুনানিকালে প্রসিকিউটর ডেনিয়েল রবিনসন কিউসি আদালতকে বলেন, তিন সন্তানের জননী আসমা বেগমকে ছুরি দিয়ে অন্তত ৫৮ বার আঘাত করা হয়। ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকরা আসমা বেগমের শরীরে মোট কতটা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তা পুরোপুরি গণনা করতে পারেননি  বলেও আদালতকে জানান তিনি।

জানা যায়, জালাল উদ্দিন জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলায় টাকা হারানো নিয়ে স্ত্রী আসমা বেগমের সঙ্গে প্রায়ই তার বিরোধ লেগে থাকতো। স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। 

আদালতকে রবিনসন জানান, তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে যে ঘটনার আগের দিন আসমা এবং জালাল ঝগড়া করেছিলেন। পরের দিন সকালে আবার ঝগড়া চলাকালে জালাল  আসমাকে খুন করে।

তবে ওল্ড বেইলি কোর্টে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জালাল উদ্দিন।

বাংলাদেশি আসমা বেগম এবং জালাল উদ্দিন ২০০৭ সালে বিয়ে করে পূর্ব লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। জালাল উদ্দিন রেস্টুরেন্টে শেফের কাজ করতেন। তিনি ধীরে ধীরে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েন। 
প্রসিকিউটর জানান, লন্ডনের জুয়ারঘর উইলিয়াম হিল এর পূর্ব লন্ডনের একটি শাখায় জালাল উদ্দিন নিয়মিত যেতেন। সেখানের লোকেরা তাকে ‘অ্যাংরি ইন্ডিয়ান’ বলে জানতেন।

আসমা বেগমের স্বজনরা বলেন, জালাল পেশাদার জুয়াড়ি ছিলেন। জুয়ার অর্থ জোগাড়ে সন্তানদের চাইল্ড বেনিফিটের টাকাও তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে কেড়ে নিতেন। আসমা বিভিন্ন সময় স্বামীকে জুয়ার নেশা থেকে ফেরাতে বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ঘটনার দিন ঠিক কি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের শুরু হয় তা জানা যায়নি।

ঘটনার দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুটো থেকে চারটা পর্যন্ত আসমা ও তার ঘাতক স্বামী জালাল ঘরে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যেই আসমাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশ বেডরুমের ওয়ারড্রোবে ঢুকিয়ে দেন জালাল।

আদালত সুত্র জানায়, স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুনের দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্বামীর বিরুদ্ধে একমাত্র আসামি হিসেবে চার্জ গঠন করা হয়েছে। তিন সন্তান এই মুহূর্তে তাদের মামার সঙ্গে আছে।

পপলারের সিটি আইসল্যান্ড ওয়ের একটি কাউন্সিল ফ্লাটে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন আসমা। তার বড় ছেলের বয়স দশ বছর। দু’ জমজ শিশু কন্যা কেবল নার্সারিতে ভর্তি হয়েছে। স্বামী জালাল উদ্দীন কয়েক বছর আগে বিয়ে করে লন্ডনে নিয়ে আসেন আসমাকে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘর গ্রামে।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends