পাক-ভারতের আকাশসীমা খোলার পর দ. এশিয়ায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক
ছবি : প্রতীকি।

একইদিনে পাকিস্তান ও ভারত দু’দেশই নিজ নিজ আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ খবর এসেছে।

পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ (পিসিএএ) জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বালাকোটে বিমান হামলার পর সিভিল এয়ার ট্র্যাফিকের জন্যে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো বলে জানিয়েছে পিসিএএ।

পিসিএএ বলছে, এই মুহূর্ত থেকে সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্যে পাকিস্তানের আকাশসীমা খুলে দেওয়া হলো। এর আগে পাকিস্তান সরকার বলেছিল, যতদিন না ভারত তাদের সীমান্তবর্তী এয়ারবেস থেকে সব ফাইটার জেট সরাচ্ছে, ততদিন বন্ধ থাকবে পাকিস্তানের আকাশসীমা।

পাকিস্তানি একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১২টা ৪১ মিনিট থেকে সব বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমার মধ্যে উড়তে পারছে। ভারতের এয়ারলাইন অপারেটদেরও পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বিমান চালাতে বাধা নেই।

পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার। পাকিস্তানের এয়ারস্পেস বন্ধ থাকায় এতদিন তাদের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রাপথ বদল করতে হয়েছিল। পাক আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানকে অন্যান্য রুট দিয়ে নিয়ে যেতে প্রায় ৪৯১ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এই বিমানসংস্থাকে।
 
এদিকে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা খুলে দেওয়ায় একই দিনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল দিল্লীও। ভারতীয় আকাশসীমায় পাকিস্তানি এয়ারলাইন্সের বিমানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিমান চলাচলে শুরু হয়েছে স্বাভাবিক পরিষেবা। 

সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পাকিস্তান আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতও পরিবর্তিত নির্দেশে তাদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে। পাকিস্তানের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের ১৪০ দিন পর সব অসামরিক বিমানের জন্য আকাশসীমা থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলে পাকিস্তান। এর ফলে ভারতের আকাশ দিয়ে উড়তে পারবে সব বেসামরিক বিমান।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী গাড়িবোমায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। তার জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিমানবাহিনী বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে হামলা চালায়। এরপরই পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করে দেয়।

তবে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত থেকে পশ্চিমা দেশে যাওয়ার জন্য ১১টির মধ্যে মাত্র একটি রুট খুলে দিয়েছিল পাকিস্তান। এতদিন ধরে ওই রুটেই যাওয়া আসা করছিল এয়ার ইন্ডিয়া এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমান।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends