গ্রুপিং আর রাজনৈতিক চর্চায় প্রবাসে হারাচ্ছে ভ্রাতৃত্ববোধ

জীবন-জীবিকার তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নিজেরা স্বচ্ছল হওয়ার পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকেও শক্তিশালী করে তুলছেন এসকল প্রবাসী।

ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অষ্ট্রেলিয়া যেকোন মহাদেশের যেকোন দেশে এ সকল প্রবাসী নিজ দেশের রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি গড়ে তুলছেন আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সংগঠন গড়ে ওঠার আগে যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকে বাস্তবে তা পরিলক্ষত হয় খুবই কম। নিজেদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সুখে-দুখে পাশে থাকার অঙ্গীকার থাকলেও মূলত একে অপরের শত্রুতা, বিরোধ এবং এক সংগঠনের বিপক্ষে আরেক সংগঠন সৃষ্টি হচ্ছে হরহামেশা।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্যারিসে রেজিস্টার্ড সংগঠনের সংখ্যা ১৪০টির মতো। নন-রেজিস্টার্ড সংগঠন রয়েছে আরো শ’খানেকের মতো।


সাব কন্টিনেন্টাল এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ এসব সংগঠন রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা কিংবা পাকিস্তানি নাগরিকদের এ ধরনের কোন কর্মকান্ড চোখে পড়ে না। 

প্রতিদিনই কোন না কোন সংগঠনের জন্ম হচ্ছে, সাধারন প্রবাসীদের স্বার্থে এ সকল সংগঠন কোন কাজেই আসছে না, মূলত নিজেদের পদ পদবী নিয়ে মিডিয়ায় হাইলাইট হওয়ার প্রবণতা। ফলে একে অপরের পেছনে লেগে থাকে এবং বিবাধে জড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নিজ দেশের সুনামও ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিদেশীদের কাছে আমাদের নেতিবাচক পরিচিতি ফুটে উঠছে।

সচেতন প্রবাসীরা মনে করেন, দিন দিন এ প্রবণতা এতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে এখনই কোন কার্যকরী ভূমিকা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এর পরিণাম আরো ভয়াবহতা দেখা দেবে।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends