অভিবাসীদের পুনর্বাসনে ৮ ইউরোপীয় দেশের চুক্তি, ‘নাকচ’ ইটালির
ছবি : নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে স্বপ্নযাত্রা নতুন নয়।- সংগৃহিত

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের পুনর্বাসনে আটটি ইউরোপীয় দেশ সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই দেশগুলোর মধ্যে ইটালি নেই। এতে অভিবাসী পুনর্বাসনে ইটালির  নেতিবাচক অবস্থান আরো স্পষ্ট হলো।  

গতকাল সোমবার (২২ জুলাই) ফরাসি প্রেসিডেন্ট মি. এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ  ৮ দেশের সম্মত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে বিষয়টি জানা গেছে।

খবরে বলা হয়, সম্মত হওয়া দেশগুলো হলো ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গ। গতকাল এসব দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অভিবাসীদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠক শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আরো জানান, প্যারিসে অনুষ্ঠিত ফ্রাঙ্কো-জার্মান পরিকল্পনার নীতিকে সমর্থন দিয়েছে ছয়টি দেশ। যেসব দেশ অভিবাসীদের গ্রহণে সম্মতি জানাবে না সেই দেশগুলো ইইউ কাঠামোগত তহবিল বরাদ্দ দিতে তিনি রাজি হবেন না।
  
ইউরোপে অভিবাসীদের প্রবেশের দ্বার ইটালি হলেও প্যারিস আলোচনায় দেশটি উপস্থিত ছিল না। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. মাতেও সালভিনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

প্যারিস আলোচনায় যে মি. মাতেও উপস্থিত থাকবেন না, তা আগেই বুঝা গিয়েছিল। তিনি গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক টুইট বার্তায় ফরাসী প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইটালি কারো হুকুম মেনে চলবে না। মি. ম্যাক্রোঁকে যদি অভিবাসী ইস্যুতে আলোচনা করতেই হয়, তাহলে তাকে রোমে আসতে হবে।”

চলতি মাসের গোড়ার দিকে সিসিলি দ্বীপে স্থাপিত ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসী আটক কেন্দ্র বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইটালি কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রটিতে প্রায় ৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী বন্দী রয়েছেন। ইটালি নতুন করে অবৈধ অভিবাসী দেশটির সীমানায় প্রবেশ করতে দিতে নারাজ। এজন্য তাদের যা যা করণীয় তাই করবে বলেও জানিয়ে দেন মি. মাতেও সালভিনি। 

প্রতি বছর কয়েক হাজার অভিবাসী জীবনের ঝূঁকি নিয়ে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিবিয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় করে অভিবাসীরা সাগর পাড়ি দেয়। পথে জাহাজ ও নৌকাডুবিতে অনেক অভিবাসীর মৃত্যু হয়। তবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে ইটালি ও ইইউ দেশগুলোর ভূমিকার কারণে অভিবাসীদের ঢল নাটকীয় হারে কমেছে।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends