ই-পাসপোর্টের ফি চূড়ান্ত, তবে ......

ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) ফি চূড়ান্ত করেছে সরকার। সর্বনিম্ন ফি সাড়ে ৩ হাজার টাকা (ভ্যাট ছাড়া) এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকেই স্ব-উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে। 

গত ১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। গতকাল রোববার (৪ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পরিপত্রটি আপলোড করা হয়। তবে ই-পাসপোর্ট কবে আসবে সেই তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুনিম হাসান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩ হাজার ৫শ’ টাকা, জরুরি ফি ৫ হাজার ৫শ’ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৭ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৭ হাজার টাকা ও অতি জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা। 
এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫ হাজার ৫শ টাকা, জরুরি ফি ৭ হাজার ৫শ’ টাকা ও অতি জরুরি ফি ১০ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা ও অতি জরুরি ফি ১২ হাজার টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতি জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতি জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১শ’ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২শ’ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে।

ই-পাসপোর্ট করতে যা লাগবে : 

পরিপত্র অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের (ডিআইপি) প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। বৈদেশিক মিশন থেকে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশে যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। অতি জরুরি পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া হবে। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends