দেশে দেশে প্রবাসীদের ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আযহা পালন
ছবি : দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলিস্থল ইথেওয়ান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত।- সংগৃহিত

বিশ্বের দেশে দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পরিবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদ পালন করেছেন। এদিন মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কুরবানী ছিল প্রধান আচার। এছাড়াও দলগতভাবে ঈদের নামায আদায়, মজাদার খাবার তৈরি ও অতিথি আপ্যায়ন ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।  

ইটালি : 

ধর্মীয়  ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করেছেন ইটালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় সময় রোববার (১১ আগস্ট)  ইটালির রাজধানী রোমের পিয়াচ্ছা ভিত্তোরিওর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৭টায় শুরু হয়ে বেলা ১০টা পর্যন্ত পরপর চারটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা অংশ নেন। এসময় ইটালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবাহান সিকদার এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়া একই সময়ে ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মিলান ছাড়াও নাপোলি, ভেনিস ও গাল্লারাতসহ ছোট বড় প্রায় তিনশ জায়গায় ঈদের জামাত আদায় করেন দেশটিতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। 
প্রতিটি স্থানেই পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবস্থা ছিলো।

ইতালি প্রবাসী শাহিন হাওলাদার বলেন, “ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। কিন্তু প্রবাসে একা থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি না। ঈদের দিনেও কাজে যেতে হয়। সবার সঙ্গে ঈদ করার আনন্দটা সত্যি খুব মিস করি।”

ইটালিতে ঈদ উপলক্ষে ছুটি বা রাষ্ট্রীয় কোন পদক্ষেপ না থাকলেও বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় কিছুটা স্বদেশের আমেজ পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী গরু ও ছাগল কুরবানি দিয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র : 

সংঘাতমুক্ত বিশ্ব ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি প্রার্থনা করে ঈদুল আযহা পালন করলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ঈদ আনন্দের উচ্ছ্বাস ছিল পরিপূর্ণ। প্রায় প্রতিটি ঈদ জামাত এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে প্রায় সর্বত্র স্বস্তির মধ্যেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্স, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, মিনেসোটা, ওহাইয়ো, আরিজোনা, ওয়াশিংটন ডিসি, নেভাদা, নিউ অর্লিন্স, আলাবামা, মিসিসিপি থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এবার পশু কুরবানি দিয়েছেন। ১২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান এবার মক্কায় হজ্ব পালন করেছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যা নাগাদ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোন শুভেচ্ছা  বার্তা না দিলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা ও ঈদ মুবারক জানিয়েছেন।

এদিকে নিউ ইয়র্কে এবারও সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে টমাস এডিসন পার্কে। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ জামাতে এসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার  সমালোচনা করেন।

ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের ঈদ জামাত শেষে মোনাজাত ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের ঈদ জামাত শেষে মোনাজাত নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় একটি করে মোট ৫টি ঈদ জামাতে শতশত মুসল্লি অংশ নেন। ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, ওজনপার্কে মসজিদ আল আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন ও শাহজালাল মসজিদ, ব্রঙ্কসে পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, বাংলাবাজার জামে মসজিদ, ইস্ট এলমহার্স্ট মসজিদ, লং আইল্যান্ডে শেলডন মসজিদের ঈদ জামাত হয় স্থানীয় ফুটবল মাঠে।

ফ্লোরিডায় ইসলামিক সেন্টারের ঈদ জামাতে বয়ান করছেন ইমাম ফ্লোরিডায় ইসলামিক সেন্টারের ঈদ জামাতে বয়ান করছেন ইমাম ফ্লোরিডায় ইসলামি সেন্টার অব বোকারেটন, আটলান্টিক সিটিতে মসজিদ আল হেরা, মসজিদ আল তাকওয়া, ভার্জিনিয়ায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাতে মানুষ অংশ নেন। ঈদ পোশাকে নারী-শিশু-তরুণীরা দলবেঁধে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় কুরবানির গোশত বিতরণ করেছেন।

জ্যামাইকায় মুসলিম সেন্টারের ঈদ জামাত হয় স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। শুভেচ্ছা জানান নিউ ইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেমস ও’নিল, নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, কাউন্সিলম্যান কস্টা কনস্ট্যানটিনিডস, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী।

ঊ্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে দুটি ঈদ জামাতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট আবুল হাশেম। জ্যাকসন হাইটসে ৫টি ঈদ জামাতে সবাইকে ঈদ মুবারক জানান এসব জামাতের সমন্বয়কারি ইমাম কাজী কায়্যুম।

এবারও ভার্জিনিয়া, পেনসিলভেনিয়া, আপস্টেট নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরা কুরবানীর পশু জবাই করেন খোলামাঠে। নিজেরাই সে পশুর গোশত প্রক্রিয়াজাত করার পর বাংলাদেশের মতো ভাগ করে নেন।

কুয়েত :

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মতো প্রায় ৩ লাখ কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি কোরবানির ঈদ পালন করেছে। স্থানীয় সময় রোববার দেশটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত হাসাবিয়া অঞ্চলের বড় মসজিদে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী একসাথে স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে পবিত্র ঈদের নামাজ পড়েন। কুয়েতে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুয়েতের জাতীয় মসজিদ ‘মসজিদ আল কাবির’ এ।  

কুয়েতে বেশ কয়েকটি মসজিদে ঈদের জামায়াতে বাংলা খুৎবা পাঠ করা হয়। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে- খারেজা বিন জায়েদ, সালেহ আল ফাদালা, উসমান বিন আফফান, সালেহ আল নামাশ, আতিকী, ওমর বিন খাত্তাব (র.), নাদী ফুরুসিয়া, নাসের বেদাইনসহ আরো বেশ কয়েকটি মসজিদে।

এদিকে ঈদের জামায়াতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মার সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে কুয়েতের প্রতিটি মসজিদে দোয়া করা হয়।

কুয়েতেও প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের সাধ্যমতো দুম্বা ও গরু কুরবানি দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া : 

এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় গত রোববার যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, স্থানীয় মুসলিমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদ উপলক্ষে দেশটিতে সরকারি ছুটি না থাকলেও দিনটি রোববার হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মুসলিমদের মাঝে আনন্দ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানী সিউলসহ বিভিন্ন শহরের ঈদগাহে ও মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করার জন্য এসে ভিড় জমান হাজার হাজার মুসল্লি। 

সিউলসহ বিভিন্ন শহরে ঈদুল আজহার জামাত পৃথক পৃথক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহর আনসানে ওংগুক পার্ক ময়দানে দুটো জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। সিউলিস্থল ইথেওয়ান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।

আনিয়াং মসজিদে ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ফারান মসজিদে সকাল ৬টায়, সাড়ে ৭টা ও ১০টায় তিনটি জামাত হয়। এ ছাড়া খুয়াংজু, পাজু, কিম্পু, সংউরি, খাপ্পাই, ওসান, পিয়নটেক, দেজন, জিনজন, সুওন, বুসানসহ বিভিন্ন শহরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম দেশগুলোতে পশু কুরবানি নিয়ম থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রকাশ্যে পশু কুরবানি দেওয়ার অনুমতি নেই। তাই বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি হালাল ফুডের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

পর্তুগাল : 

রাজধানী লিসবনসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ দিন ঈদ উদযাপন করেন। লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা মাতৃম-মুনিজ পার্কে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। এ নামাজে অংশ নেন কয়েক হাজার মুসল্লি। এ ছাড়া লিসবনের সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নামাজে অংশ নেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

মাতৃম-মুনিজ পার্কের ঈদের জামাতে নামাজ শুরুর আগে বয়ান করেন মাতৃম-মুনিজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইব্রাহিম মোল্ল। ইমামতি করেন লিসবনের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু সাঈদ।

নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। এরপর মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তাদের সঙ্গে আসা শিশুরাও পরস্পরের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে।
দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিকী মাতৃম-মুনিজ পার্কে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

লিসবন ছাড়াও দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী পোর্তো, পর্যটন নগরী ফারোসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের উদযাপন করেছেন। 

সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) : 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসবমুখর আবহে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি মুনসাইটিং অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা অনুযায়ী গত সোমবার (১২ আগস্ট) ঈদ উদযাপিত হয়। পাশাপাশি দেশটির ইমাম কাউন্সিলের ঘোষণা অনুযায়ী গত রোববারও (১১ আগস্ট) ঈদুল আজহা পালন করেছেন অনেকে।

সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ঈদের নামাজ আদায় করে পশু কুরবানি ও আত্মীয়-বন্ধুর বাড়ি ঘুরে ঈদের দিন কাটিয়েছেন। 

কুরবানি ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা পশু কুরবানির নিয়ম অস্ট্রেলিয়ায় ভিন্ন। প্রবাসীদের অনেকে দেশে পরিবারের মাধ্যমে কুরবানি সম্পন্ন করে থাকেন। তবে যারা অস্ট্রেলিয়ায় নিজে কুরবানি দিয়েছেন, তারা শহর থেকে দূরে অথবা নির্দিষ্ট ফার্মে গিয়ে ঈদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছেন। আবার অনেক বাংলাদেশি ঈদের আগে হালাল মাংসের দোকানে কুরবানির ফরমাশ দিয়েছিলেন। দোকানমালিকেরা নিজেদের ফার্মে কোরবানি সম্পন্ন করে কোরবানির মাংস বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন ঈদের দিন কিংবা পরদিন।

ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন চিত্রের দেখা মেলে সিডনির বাংলাদেশি-অধ্যুষিত এলাকা লাকেম্বায়। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন সিডনিতে।
 
গ্রিস : 

ঈদের দিন সকালে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের আয়োজনে রাজধানী এথেন্সের কুমুদুরু পার্কে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ প্রবাসী বাংলাদেশি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন। প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে তাদের আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা আর ধর্মীয় পবিত্র অনুভূতি নিয়ে ঈদ পালনের এবং প্রতিটি মানুষ অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াবে - এই সংকল্প নিতে তাদের আহ্বান জানান। তিনি ত্যাগ–তিতিক্ষার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতাভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে জোর দেন।

ঈদের জামাতে আরো উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ঈদের জামাতে দেশ ও জনগণের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

মাদ্রিদ (স্পেন) : 

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের নামাজ আদায় এবং একে অপরের বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময়ে করে দিনটি আনন্দময় করার চেষ্টা করেন। তবে ঈদের দিন সরকারি ছুটি না থাকায় নামাজ আদায় করেই অনেকে কাজে যান।

মাদ্রিদের লাভা-পিয়াসের কাসিনো পার্কে খোলা মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বিগত বছরের মতো এবারো সরকারিভাবে অনুমতি নিয়ে কাসিনো পার্কে ঈদ জামাত আয়োজন করা হয়। লাভাপিয়েসের বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশি মসজিদ পরিচালনা কমিটির আয়োজনে কাসিনো পার্কের খোলা মাঠে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটা ও সাড়ে আটটায় দুটো জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

কয়েক হাজার মুসল্লি এখানে নামাজে অংশ নেন। সুন্দর আবহাওয়া তাদের ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয়। নামাজ শেষে খুৎবায় বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্য দেশের মুসলমানরাও এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্পেনের আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে পশু কুরবানি দেওয়া যায় না। তাই গোশত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা এখানে কুরবানি দিয়েছেন।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends