মেক্সিকোতে ১৭ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে উপকূলীয় রাজ্য ভারাক্রুজে একটি ট্রাকের পরিত্যক্ত ট্রেইলার থেকে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। পানিশূন্য ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া উক্ত অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং শ্রীলঙ্কার ১২ জন অভিবাসী রয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় জননিরাপত্তা দফতরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ থেকে যাওয়া ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল কাতারের একটি বিমানবন্দর থেকে তুরস্কে যান। সেখান থেকে কলম্বিয়া পোঁছান। তারপর তারা কলম্বিয়া থেকে ইকুয়েডর, ইকুয়েডর থেকে পানামা, পানামা থেকে গুয়াতেমালা এবং অবশেষে গুয়াতেমালা থেকে মেক্সিকো পৌঁছান।

এক সময় অভিবাসী জানিয়েছিল, মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর কোটজাকোয়ালকোস নদী হয়ে নৌকায় মেক্সিকোর উত্তর দিকের সীমান্তে চলে যান তারা। কেন সেদিকে গেলেন তা মেক্সিকো কর্তৃপক্ষও বুঝতে পারছে না। কেননা দেশটির উত্তর সীমান্ত থেকে অনেক দূরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এক কর্মকর্তা বলেন, এসব দেশের অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা খুব বিরল। সাধারণত মধ্য আমেরিকা বা কিউবার নাগরিকদের উদ্ধার করা হয়।

ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে ভারাক্রুজে থামতে বাধ্য হয় অভিবাসীরা। এই অভিবাসীদের বেশিরভাগই উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিতে আসা মধ্য আমেরিকার নাগরিক।

মেক্সিকোর ফেডারেল জননিরাপত্তা বিভাগ এও জানিয়েছে, ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে খুব দুর্বল এবং ক্লান্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফেডারেল পুলিশ। এরপর তাদের প্রত্যেককে খাবার, পানীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পাশের একটি অভিবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। নৌ-পথে উত্তর সীমান্তে যেতে তাদের অনেকদিন লেগে যায়। এ জন্য তাদের সঙ্গে থাকা খাবার শেষ হয়ে যায়। যদি পুলিশ তাদের উদ্ধার না করতো, তাহলে তাদের মৃত্যুও হতে পারতো। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা করে দেখা হবে তারা মেক্সিকোতে থাকার উপযুক্ত কিনা। 

এর আগে গত বুধবারই (১৪ আগস্ট) মেক্সিকোর সরকার ঘোষণা দিয়েছে, গত দু’ মাসের এমন পরিস্থিতিতে ১৯ হাজারের বেশি অভিবাসীকে তারা উদ্ধার করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রগামী বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে মেক্সিকো। কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ট্রেন, বাণিজ্যিক বাস, সেমি-ট্রাকে করে অভিবাসীদের পাচার ঠেকানোর জন্য কাজ করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেমি-ট্রাক নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

গত দু’ মাসে ১৭ সেমি-ট্রাক থেকে ১ হাজার ৭০৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। আরেকটি ঘটনায় ৭৯১ জনকে পাচার করা হচ্ছিল কোনো রকম নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা না রেখেই।

মেক্সিকো সরকারের অভিযানের ফলে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছানো অভিবাসীদের সংখ্যা কমে গেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ও ২১ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যকে সীমান্তে মোতায়েনের ফলে অভিবাসীরা মানবপাচার চক্রের দ্বারস্থ হবেন। এই পাচারকারীরা আবার প্রভাবশালী মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends