ভিসা ছাড়া এসে ফেঁসে যান ৩৭ মার্কিন নাগরিক

ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে এসে আটকে যান যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ নাগরিক। বিমানবন্দরে ৯ ঘণ্টা পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকার পর ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভালের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, তাদের ১৬ জনকে টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট এনজিওদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করতে দেয়নি সরকার। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ জন নাগরিক ভারত থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। তাদের মধ্যে জনাথন রামসে ও হ্যানরি কেন্ডিস মেয়ার্স নামে দু’জনের বাংলাদেশি ভিসা থাকলেও বাকি ৩৭ জনের কোনো ভিসা ছিল না। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিসাহীন ৩৭ নাগরিককে বিমানবন্দরের ভেতরেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ইমিগ্রেশন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জানান, বাংলাদেশে আসার আগে তারা মিয়ানমারে যান। সেখানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। আসার কারণ সম্পর্কে তারা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি শুনে তাদের ভালো লেগেছে। এজন্যই তারা বাংলাদেশে এসেছেন। এ ছাড়া যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছে তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।

এদিকে বিমানবন্দরে নিজ দেশের নাগরিকদের আটকে পড়ার পর খবর শুনে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দূতাবাস থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয় যে, বিনা ভিসায় আসা নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরে যাবেন। এ নিশ্চয়তা পাওয়ার পর ওইদিনই ৩৭ জনকে ভূতাপেক্ষভাবে (পেছনের সময় উল্লেখ করে) ভিসা অন অ্যারাইভাল দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত ভিসা অন অ্যারাইভাল দেওয়ার চিঠিতে বলা হয়, ৩৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের অনুকূলে প্রত্যয়নপত্র দাখিল, পরিচিতি ও ফিরতি টিকিট নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ভিসা অন অ্যারাইভাল প্রদানের জন্য এ বিভাগের সম্মতি ভূতাপেক্ষভাবে প্রদান করা হলো এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হলো। চিঠিটি বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিসা অন অ্যারাইভাল দেওয়ার পর ওইদিনই কয়েকজন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। বাকিদের মধ্যে পরদিন ১৬ জনের একটি প্রতিনিধিদল টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায়। সেখানে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট এনজিওদের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা বলেন তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরিয়ে দেখায়। তবে কোনো এনজিওর সঙ্গে বৈঠক করতে দেওয়া হয়নি তাদের। ঢাকায় ফেরার পর তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন দূতাবাসের মাধ্যমে অনেকে আসেন। নিরাপত্তার জন্য সহায়তা চান। আমরা সেভাবে নিরাপত্তাও দিই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এভাবে এসেছেন কি না তা আমার জানা নেই। সূত্র : দেশ রূপান্তর।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends