৮০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মরিশাস

একটি পোশাক কারখানায় আন্দোলন ও ভাঙচুর করার জেরে ৮০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠাচ্ছে র্পূব আফ্রিকার মরিশাস। তাদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতবিার (৩ অক্টোবর) রাতে ১৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। র্পযায়ক্রমে বাকিদেরও পাঠানো হবে।

মরিশাসের সাইফলেক্সি নামক দ্বীপে ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেডে বেতন-ভাতাসহ বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর র্পযন্ত এই আন্দোলন করে বাংলাদেশের কিছু কর্মী।

মো. পাভেল মীর নামে এক বাংলাদেশি কর্মী বলেন, প্রায় দু’ হাজার কর্মী এই র্গামেন্টেেস কাজ করেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি নারী-পুরুষ।

চুক্তি অনুযায়ী, এসব কর্মীদের বেতন ছিল ৮ হাজার ৪০ মরিশাস রুপি। কিন্তু তাদের থাকার জন্য ১৪শ’ রুপি এবং খাওয়া বাবদ ১৯৫০ রুপি বেতন থেকে কেটে নেয় কোম্পানী। তাছাড়া খাবারের মানও অত্যন্ত নিম্ন। থাকার পরিবেশও ভাল নয়। একটি কক্ষে ৩০-৩৫ জন কর্মী থাকলেও র্পযাপ্ত ফ্যানের অভাবে শীতের মধ্যেও গরম লাগে।

রুমি আক্তার নামে আরেক বাংলাদেশি কর্মী বলনে, ক্যান্টিনের রান্না খেতে না পারায় আমাদের কয়েকজন রান্না করে খাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয় না। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি নারী কর্মী একটি কেটলেিত করে খাবার রান্না করলে সেটি ধরা পড়ে।

তিনি জানান, ওই বাংলাদেশি কর্মীর রান্না করার বিষয়টি আরেক বাংলাদেশি যাকে কোম্পানি সিকিউরিটি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল, তিনি ধরে ফেলেন। ফলে ওই নারীকে মারধর করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আন্দোলনে নামনে অন্য বাংলাদেশি নারীরা। এরই সূত্র ধরে আন্দোলন শুরু হয়।

আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, ছয় দফা দাবি নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যান বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ কর্মীরা। আট হাজার ৫৪০ রুপি বেতন, থাকা-খাওয়ার খরচ কোম্পানি র্কতৃক বহন, চুক্তি শেষে হওয়ার আগে কাউকে দেশে ফেরত না পাঠানো, ব্যক্তিগতভাবে রান্না করে খাওয়ার সুবধিা দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।

এদিকে কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মী অবশ্য জানান, আন্দোলনরে খবর পেয়ে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং কর্মীদরে কাজে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু তারা কথায় কান না দিয়ে ওই কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শুধু তাই নয় কর্মবিরতি চলাকালে যেসব বাংলাদেশি আন্দোলনকারীদরে সাথে অংশ না নিয়ে কাজ করছিল তাদের মারধরও করে আন্দোলনকারীরা।

তারা জানান, কাজ অংশ নেওয়া বাংলাদেশিদের মারধর করলে পুলিশ ডাকে কোম্পানী। তখনই ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। এমনকি তারা কারখানা বন্ধ করার হুমকিও দেয়। পরে গতকাল বৃহস্পতবিার থেকে কর্মীদরে কাজে যোগ দিতে আহ্বান জানায় ফায়ারমাউন্ট র্কতৃপক্ষ। কিন্তু ভিডিও দেখে ভাঙচুরকারীদরে শনাক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে তারা।

মরিশাসের একটি থানা থেকে কয়কেজন কর্মী জানান, হঠাৎ করেই কারখানা থেকে নিয়ে তাদের ডরমেটরিতে নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নিতে বলা হয়। সেখান থেকে থানা এবং পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে একে একে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

মরিশাসে বাংলাদশে হাইকমিশনের প্রথম সচিব ওহিদুল ইসলাম বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বলেন, ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড মরিশাসের এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (ইপিজেড) ভেতরে একটি কারখানা। ২০১৮ সালের মরিশাসের আইন অনুযায়ী ইপজিডেভুক্ত কারখানার শ্রমিকদের বেতন থেকেই থাকা এবং খাওয়া বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়। এ আইনে তাদের আলাদা করে রান্নার সুযোগ নেই।
তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের এই দুটো দাবি মানতে চায়নি কোম্পানী। তবে রুমে ফ্যান বাড়ানো, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করাসহ আনুষঙ্গিক আরো কিছু দাবি তারা মানতে রাজি হয়। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবেিত অনড় থাকেন।

ওহিদুল ইসলাম জানান, একটা পর্যায়ে মরিশাসের শ্রম মন্ত্রণালয় বাংলাদশে হাইকমিশনকে জানায়, এ ধরনরে আন্দোলন চলতে থাকলে বাংলাদশে থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে তারা পুনরায় ভাববে। ফলে কয়েকজন বাংলাদেশি আন্দোলনকারীর জন্য মরিশাসে পুরো বাংলাদেশের শ্রম বাজার হুমকির মুখে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হামলার সাথে জড়িত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা হওয়ার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেদিকে না যেয়ে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ফায়ার মাউন্ট কোম্পানীতে একটা একটা সময় কাজের চাপ বেশি ছিল। শ্রমিকরা ওভারটাইমও বেশি পেত। সম্প্রতি সেটা কমে যাওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা কিছুটা কমে যায়।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends