বিনা খরচেই যাওয়া যাবে জাপান

‘জিরো কস্ট মাইগ্রেশন’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে ১৫টি ক্যাটাগরিতে কোনো রকম অভিবাসন ব্যয় ছাড়া দক্ষ জনবল নেবে জাপান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য ও সচেতনতা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের উপস্থিতিতে তার পক্ষে ‘জাপান-বাংলাদেশ শ্রম বিষয়ক চুক্তি’ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়য়ের যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত বক্তব্যে যুগ্ম সচিব বলেন, জনবলের অভাবে জাপানের অর্থনীতির চাকা বর্তমানে প্রায় অচল। তাই জাপান বিশ্বের ৮ টি দেশ থেকে জনবল নিয়ে তাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছে। তাই চলতি বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী মি. শিনজো আবেকে জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সচল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জনবল নেবে জাপান।

এ লক্ষ্যে যেসব নারী পুরুষের বয়স ৩২ এর ঊর্ধ্বে নয়, তারা নির্ধারিত ১৫ টি ক্যাটাগরিতে দক্ষতা অর্জন করে ও জাপানি ভাষা শিখে এ পদ্ধতিতে জাপান গমনে অংশ নিতে পারবেন। দক্ষতা অর্জন ও ভাষা শিক্ষার জন্য সিলেট মহিলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তিসহ বাংলাদেশের সরকারি ৩৩ টি টিটিসি’তে ভর্তি হয়ে ‘জিরো কস্ট মাইগ্রেশন’ পদ্ধতি নির্ধারিত যে কোনো একটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাপান যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে জাপানের রিক্রুটিং এজেন্ট সরাসরি পরীক্ষা নিয়ে লোক নিয়োগ দেবে বলেও জানানো হয়।

এসময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশে নির্যাতিত নারী গৃহকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেখানকার দূতাবাসের মাধ্যমে কাজ চলছে। যারা নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরছে তাদের সংখ্যা অনেক। অন্যের কাছে, কারো কারো কাছে এ সংখ্যা খুবই নগন্য মনে হলেও আমার কাছে এটা অনেক। এক জনও যদি নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরে তবে এটা আমার কাছে অনেক। অন্তত এ মন্ত্রীর (নিজের কথা) কাছে এটা অনেক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানো ও জালিয়াতির অভিযোগে ১৬৬ টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে আপাতত লিবিয়া যারা গিয়েছে, তারা সবাই অবৈধভাবে গিয়েছে। তবুও তারা যেহেতু দেশে ফিরে আসছে, তাই তাদেরকে সরকার সহযোগিতা করবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ইমরান আহমদ বলেন, নিয়ম হচ্ছে যারা ইউরোপের দেশ থেকে কোনো রকম প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরে আসবে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের সাহায্য করবে। কিন্তু এখন যারা আসছে তারা গন্তব্যে না পৌঁছেই ফিরে আসছে। সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী আইওএম তাদের সাহায্য করার কথা নয়। তবুও মানবিক কারণে তাদের প্রত্যেককে ১ হাজার ৪শ’ মার্কিন ডলার করে সহায়তা প্রদান করবে।

এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরছে তারা মামলা করতে পারবে। কিন্তু কেউ মামলা করে না। কারণ মামলা করলে জায়গায় থেকে মামলা পরিচালনা করতে হয়। এজন্য কেউ মামলা করতে চায় না। তাই আমরা বর্তমানে চেষ্টা করছি, যাতে যারা নির্যাতিত হয় তারা মামলা করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে দেশে ফিরতে পারে। যাতে তাদের মামলা বাংলাদেশ দূতাবাস পরিচালনা করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

উক্ত প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends