ফ্লাশব্যাক ২০১৯ : রেমিট্যান্স রেকর্ড ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়ে শেষ হতে চলেছে ২০১৯ সাল। বছর শেষ হওয়ার আগেই এক হাজার ৮শ’ কোটি (১৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক।
পুরো বছর শেষে এই অংক ১৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে বলে হিসাব কষছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।


প্রবাসীদের অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো রোধ করার কৌশল হিসেবে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ায় জনশক্তি রফতানি কমার পরও রেমিট্যান্সে সুখবর দিয়ে শেষ হতে চলেছে বছর।


বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত রেমিট্যান্সের গতিপ্রবাহ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৯ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরের ২৬ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর) ১৪৮ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তার আগে ১১ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে এক হাজার ৬৬৩ দশমিক ৯০ কোটি (১৬ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।


সবমিলিয়ে বিদায়ী বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৮১২ দশমিক ২৭ কোটি (১৮ দশমিক ১২ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক ২০১৮ সালের চেয়ে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। এর আগে এক বছরে এতো রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসেনি। ২০১৮ সালে ১৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।


রেমিট্যান্স প্রবাহে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “বছরের বাকি ৫ দিনে আরো ৩৫-৪০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসবে। সে হিসাবে ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স সাড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।”


রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারায় রফতানি আয়ে বড় ধাক্কার পরও বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গতকাল রোববার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী। এই ‘বৈরি হাওয়ার’ মধ্যে একমাত্র রেমিট্যান্সই আশার আলো ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক ড. আহসান এইচ মনসুর।


প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ অন্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমালে অর্থনীতির রেমিট্যান্স আরো বাড়বে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)’ এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।


তিনি বলেন, “একমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির অন্য সব সূচকের অবস্থা এখন খারাপ। রফতানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় কমছে। মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী। আমদানিও কমছে। বিনিয়োগে খরা কাটছে না। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়। শেয়ারবাজারে তো মন্দা লেগেই আছে। সে কারণেই বলা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই এখন সচল রেখেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা।”


বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করতে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি ওই ১০০ টাকার সঙ্গে ২ টাকা যোগ করে ১০২ টাকা তুলতে পারছেন। বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends