১৯৭১ সালের ভূমিকার কারনেই লিবারেলের রাজনীতি করছি : হাসনা হেনা

১৯৭১ সালে বন্ধুসুলভ ভূমিকার কারনেই আমি কানাডাতে লিবারেল পার্টির রাজনীতি করছি। আমার নেতা মি. জাস্টিন ট্রুডো। সংসার-কর্মের পর আমি অবসরের প্রতিটি মুহূর্ত দলের জন্য কাজ করি। নিজেকে কষ্ট দিয়ে রাজনীতি করছি। আল্লাহর রহমতে এখন সবাই-ই আমাকে একজন ডেডিকেটেড লিবারেল কর্মী হিসেবে চিনে এবং জানে। 


কানাডার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট রাইডিংয়ের অন্যতম পরিচালক  হোসনে আরা আক্তার ওরফে হাসনা হেনা মাইগ্রেশন নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। গতকাল রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে দীর্ঘ এক ঘন্টা ৪০ মিনিটের আলাপচারিতায় নানা বিষয় উঠে আসে। 


তার অসুস্থ মাকে দেখতে সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। মন খারাপের মধ্যেও তিনি তার বন্ধু-শুভাকাংখী সাংবাদিক, রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।  


‘দেশের মানুষকে নিয়ে আপনার ভাবনা হয়?’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন. ‘দেশকে ফিল করি। দেশের মানুষকে ফিল করি। বাংলাদেশের মানুষগুলো অনেক ভালো। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। প্রবাসী অনেকেরই মাকে দেখার কেউ নেই। এই মায়েদের জন্য অবশ্যই কিছু একটা করবো।’ এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তার মায়ের সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান।


‘রাজনীতিতে আসলেন কীভাবে?-এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনা হেনা বলেন, ‘বাংলাদেশে থাকাকালে কখনোই রাজনীতি করিনি। রাজনীতি করার ইচ্ছেও জাগেনি। কিন্তু কানাডাতে যাওয়ার পর কেন জানি রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেটা খুব সম্ভবত এ কারনে যে, সেখানকার পলিটিক্স নীট অ্যান্ড ক্লিন। কোন স্বজনপ্রীতি নেই। যার যার যোগ্যতা অনুসারে সে সে স্থান করে নিচ্ছে। আমার আসনের (টরন্টো প্রদেশের স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট) যিনি টানা দু’ টার্ম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ও বর্তমানে পাবলিক সেফটি অ্যান্ড ইমারর্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, মি. বিল ব্লেয়ার এক সময় পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আজ তিনি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হয়েছেন।’ 


তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার খুবই লক্ষণীয়, কানাডাতে নেতা, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা রয়েছে। এমপি. এমপিপি, সিটি কাউন্সিলর সবার অফিসে জনগণের প্রবেশাধিকার রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে ভোটারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। সেখানকার নেতারা কর্মীদের কথা শোনে। সমালোচনা করলে তা ইতিবাচকভাবে নেয় এবং গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতির কথা তেমন জানি না। সেখানে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের রাজনীতির চর্চা হয়।’ 


লিবারেল পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ সাবলীল ভাবে বললেন, ‘লিবারেল পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার একটা এবং একটাই মাত্র কারন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে তাদের তৎকালীন নেতা ও কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মি. জাস্টিন ট্রুডোর পিতা মি. পিয়েরো ট্রুডোর অকুন্ঠ সমর্থন প্রদান। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের পাশে ছিলেন ও বন্ধুসুলভ ভূমিকা পালন করেছেন, কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাদের সাথে থাকাটাই সমীচীন বলে মনে করেছি।’

 
‘আমি সেখানে নিজে কাজ করে খাই। একাধিক জবও করেছি। কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্নাবান্না থেকে গৃহস্থালী সকল কাজ করি নিজেই। একমাত্র মেয়ে অথৈ ঐশীর জন্য দিনের সকল ধরনের খাবার আমি নিজ হাতে তৈরি করি। আমার অবসর বলে কিছু নেই। যতটুকু অবসর পাই ততটুকু সময়ই রাজনীতিতে ব্যয় করি, দলের জন্য কাজ করি। আমার প্রতিটি মিনিট কাউন্টেবল নিজেকে কষ্ট দিয়ে রাজনীতি করি। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। গত নির্বাচনে আমার দল (লিবারেল পার্টি) ও প্রার্থীর জন্য ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইন করেছি। আল্লাহর রহমতে এখন সবাই-ই আমাকে একজন ডেডিকেটেড লিবারেল কর্মী হিসেবে চিনে এবং জানে।’ 


‘আমার দল লিবারেল, আমার নেতা জাস্টিন ট্রুডো। আমি দল ও নেতাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। আমার আত্মা থেকে চাই, লিবারেল সব সময় জনগনের ভোটে ক্ষমতায় আসুক।’ 


তার রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমার নেতাকে (জাস্টিন ট্রুডো) ফলো করি। ফলো করি নিবেদিতপ্রাণ প্রতিটি নেতা-কর্মীর কথা বলার স্টাইল, অ্যাপ্রোচ ও ম্যানার। প্রতিদিন আমি শিখছি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হাসনা হেনা বলেন, ‘ভবিষ্যতে সেখানে নির্বাচন করবো কি-না সেটা সময়ই বলে দিবে।’


‘বহু সংস্কৃতির দেশ’ কানাডার আয়তন ৯ হাজার ৯শ’ ৮৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৩৭ মিলিয়ন। যার রয়েছে ১০ টি প্রদেশ এবং ৩ টি সীমান্ত। দেশটিতে ৩ থেকে ৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী, অভিবাসী রয়েছে বলে ধারনা করা হয়।

দেশটিতে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি অব কানাডা ছাড়াও কনজারভেটিভ পার্টি, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ব্লক কুবেকুয়া পার্টি, গ্রীন পার্টি, পিপলস পার্টি অব কানাডা ইত্যাদি রাজনৈতিক দল সহাবস্থানে থেকে যার যার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 


মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/এসআর ##

 

share this news to friends