করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিউইয়র্কেই ২৪

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। একই সঙ্গে বাড়ছে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা। এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত শুধু নিউইয়র্কেই ২৪ জন বাংলাদেশি করোনায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অন্য দুজন হলেন মিশিগান ও নিউজার্সিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে ঢাকা থেকে প্রকাশিক দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক স্বপন হাই সহ ৯ বাংলাদেশির প্রাণ। কমিউনিটিতে আরও অনেক প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত রয়েছে।

সেখানে কর্মরত প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী ও কমিউনিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নিউইয়র্কের সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী জানান, নিউ ইয়র্কের হাসপাতাল থেকে তথ্য পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ঢোকার অনুমতি নেই কাছের পরিজনদেরও। পুরো শহর লকডাউন থাকায় গুঞ্জন-গুজবে আতঙ্ক বাড়ছে।

নিউইয়র্ক এখন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে করোনভাইরাস সংক্রমণের মূল কেন্দ্রস্থল। সেখানে খুব দ্রুত মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছে প্রায় এক হাজার জন।

এর আগে শুক্রবার পর্যন্ত নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০ জন বাংলাদেশি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

এদিকে দেশটিতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দূরত্ব ও ফেডারেল করোনাভাইরাস গাইডলাইনের মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্কে করোনা অত্যন্ত খারাপভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গত ২৮ মার্চ এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ৮ জন বাংলাদেশির। তারা হলেন- কায়কোবাদ, শফিকুর রহমান মজুমদার, আজিজুর রহমান, মির্জা হুদা, বিজিত কুমার সাহা, মো. শিপন হোসাইন, জায়েদ আলম এবং মুতাব্বির চৌধুরী ইসমত। 

নিউইয়র্কের বাইরে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ড্রেটয়েট সিটি ও নিউজার্সির প্যাটারসনে দু’ বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।

এর আগে ২৭ মার্চ নিউইয়র্কে মারা গেছেন ৬৩ বছরের ক্যাবচালক এ কে এম মনির উদ্দিন। একই দিন মারা যান সফিউদ্দিন বেপারী নামে ৫৮ বছরের আরেক ব্যক্তি।

গত ২৬ মার্চ মারা যান ৭৭ বছরের ব্রংক্স এলাকার এক ব্যক্তি। ২৫ মার্চ মারা যান ব্রুকলিন এলাকার ৪৫ বছরের মোছাম্মদ আক্তদারি।

 এর আগে ২৪ মার্চ মারা যান চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ৬০ বছরের আবদুল বাতেন, ৭০ বছরের নুরজাহান বেগম, ৪২ বছরের এক নারী এবং ৫৯ বছরের এ টি এম সালাম।

আগের দিন ২৩ মার্চ মারা যান ৩৮ বছরের আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষা এবং ৬৯ বছরের মোহাম্মদ ইসমত। তার আগের সপ্তাহে মারা যান মোতাহের হোসেন ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজন বাংলাদেশি। 

এ ছাড়া নিউইয়র্ক, মিশিগানসহ বিভিন্ন স্থানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অনেক প্রবাসী। এতে কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর দিনে দিনে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে করোনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা যাওয়া ২ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই মারা গেছেন ৯৬৫ জন।

করোনাভাইরাস এখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বাংলাদেশির এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর লোকমুখে শোনা গেলেও ঠিক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।

আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কভিড-১৯ রোগীর উপচেপরা ভিড় হাসপাতালগুলোতে। নিউইয়র্কে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেখানে হাসপাতালে আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না৷ স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

গত রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নর অ্যাড্রু কোমো জানান, নিউইয়র্ক রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৯৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আমেরিকার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের অধিকর্তা অ্যান্থনি ফোসি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকাতে এক থেকে দু’ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী দু’ সপ্তাহে আমেরিকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটতে পারে। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই বলে জানান ট্রাম্প।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends