প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগের মুনাফা ১২% পর্যন্ত

বিদেশে অবস্থান করেন, এমন যেকোনো বাংলাদেশি চাইলেই প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ করে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা নিতে পারেন। ১৯৮৮ সালে চালু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ২০০২ সালে চালু হওয়া তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বিনিয়োগ করে এ সুবিধা পাওয়া যায়।
 
বাংলাদেশ সঞ্চয় অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মধ্যেখানে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব বন্ড বিক্রি বন্ধ ছিল।

সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা উক্ত তিন বন্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন প্রবাসীরা। এতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। একজন প্রবাসী কী পরিমাণ বন্ড কিনতে পারবেন, এ নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে প্রবাসী বন্ডে বেশির ভাগ বিনিয়োগই হাতে গোনা কয়েকজনের।

এসব বন্ড পাওয়া যায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশি ব্যাংকের বিদেশি কোনো শাখা ও বাংলাদেশের ব্যাংক শাখায়। আবার এসব বন্ডে বিপরীতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণও পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত মূল অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রা বা মার্কিন ডলার দু’ভাবেই প্রদানের সুবিধা রয়েছে। বিনিয়োগকৃত অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেওয়া যায়। এসব বন্ডের বিনিয়োগ করে ‘সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)’ সুবিধা পাওয়া যায়। আবার এই আয়ে করমুক্ত সুবিধাও মেলে, রয়েছে মৃত্যুঝূঁকি সুবিধাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাঁচ বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলে, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষান্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। আট কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সিআইপি সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া এ বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে মৃত্যুঝূঁকির সুবিধা। এ বন্ড ভাঙানো না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ বছরের অথবা পরবর্তী যে কোন মেয়াদের জন্য পুনরায় বিনিয়োগযোগ্য হবে।

প্রবাসী ছাড়াও এ বন্ড কিনতে পারেন বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতা পান। মুনাফার হার বেশি হওয়ায় প্রবাসে অবস্থান করা বেশির ভাগই এ বন্ড ক্রয় করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এসব বন্ডের বড় ক্রেতা হিসেবে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান, তার ভাই ওলিউর রহমান, কাজী সরোয়ার হাবীব, মনির হোসেন প্রমুখ।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড চালু তিন বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ৫০০ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর সরল সুদে মুনাফা তোলা যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড ভাঙতে চাইলে ১ থেকে দেড় শতাংশ সুদ কমে যায়।

আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদি। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।   

এছাড়া ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা এর অধিক মূলের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে মৃত্যুঝুঁকির সুবিধা। ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলেই পাওয়া যাবে সিআইপি সুবিধা। এ বন্ডে স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে। তিন বছর মেয়াদী এ বন্ডের মুনাফা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য সরকারের ৩ ও ৫ বছর মেয়াদী তিন ধরনের বন্ড রয়েছে। ব্যাংকগুলো এ বন্ড বিক্রি করে। এর মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। নিরাপাদ বিনিয়োগ করে প্রবাসীরাও লাভবান হচ্ছেন।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/সাদেক ##

share this news to friends