যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে জয় : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার কন্যাকে অভিনন্দন

সদ্য সমাপ্ত যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন ব্রিটিশ নারী জয় পেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে রুশনারা আলী, পূর্ব লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড থেকে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস থেকে আপসানা বেগম এবং লন্ডনের ইলিং  সেন্ট্রাল ও একটন থেকে রূপা হক জয়ী হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই বামধারার রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির হয়ে লড়াই করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি কাক্সিÿত ফল না পেলেও এই চার বাংলাদেশি-ব্রিটিশ নারী ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। অভিনন্দন এই চার লড়াকু ও বিজয়ী কন্যাকে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তাঁদের সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের পরিচয়কে আরও নতুন মাত্রা দিবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।


লন্ডন প্রকাশিত বাংলা সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন ১০ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। এদের মধ্যে ৭ জনই নারী। লেবার দল থেকে সর্বোচ্চ ৭ বাংলাদেশি প্রার্থীর পাশাপাশি লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী এবার নির্বাচনি লড়াইয়ে নামেন। 


নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড হে আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সিলটি কইন্যা’ রুশনারা আলী। ৪৪ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। কনজারভেটিভ পার্টির নিকোলাস স্টোভোল্ডকে ৩৭ হাজার ৫২৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। ২০১০ সালের পর ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হন রুশনারা আলী। ২০১৭ সালের নির্বাচনেও ভোট ব্যবধান বাড়ে।


লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। ২৮ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। টিউলিপের নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব কনজারভেটিভের জনি লুক পান ১৩ হাজার ৮৯২ ভোট। ২০১৫ সালে ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। ২০১৭ সালে ভোটে টিউলিপের জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫৬০। এবার ১৪ হাজার ১৮৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেন তিনি।

লন্ডনে ইলিং সেন্ট্রাল আসনে লেবার পার্টির হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন রূপা হক। ২৮ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। রূপার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব কনজারভেটিভের জুলিয়ান গ্যালেন্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩২ ভোট। রূপা হকও ২০১৫ সালে  প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ওইবার তিনি মাত্র ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে চমক সৃষ্টি করেন। ২০১৭ সালে তিনি জিতেছিলেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। এবার ১৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান রূপা। 


এদিকে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আপসানা বেগম। পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে ৩৮ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পার্লামেন্টেরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী শন ওক পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৬ ভোট। এবারই প্রথম লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। আপসানা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌরশহরের লুদরপুর এলাকার বাসিন্দা ও লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক মেয়র মরহুম মো. মনির উদ্দিন ময়না মিয়ার কন্যা।


অন্যদিকে হ্যারো ওয়েস্টে ÿমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. আনোয়ারা আলী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস (লিব ডেম) দল থেকে কার্ডিফ সেন্ট্রাল আসনে ড. বাবলিন মলিøক ও উইয়ার ফরেস্ট আসনে সাজু মিয়া, স্কটল্যান্ডে নর্থ এভারডিনে লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুরুল হক আলী ও লন্ডনের বেকেনহামে ব্যারিস্টার মেরিনা মাসুমা আহমেদ ও হাটফোর্টশায়ার সাউথওয়েস্টে হেরে গেছেন লেবারের নতুন প্রার্থী আলী আখলাকুল নির্বাচনে নিজ আসন থেকে পরাজিত হয়েছেন। তাদের জন্যও রইলো শুভ কামনা। আগামীতে তাঁরা বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন, আমরা সে প্রত্যাশা করছি।


মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/এসআর ##

share this news to friends